এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করার সঠিক নিয়ম

বর্তমান যুগে আমাদের প্রায় সকলের ই রয়েছে একাধিক সিম। কখনো কোনো সিমে ব্যালেন্স অনেক বেশি থাকে আবার অন্য সিমে কোনো ব্যালেন্স ই থাকে না। তখন আমাদের এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পরে। কিন্তু সঠিক নিয়ম না জানায় আমরা নিজেদের এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারি না।

ফলে নানারকম ভোগান্তির স্বীকার হই। আবার অনেকসময় বিকাশ, রকেট বা নগদ থেকে টাকা পাঠাতে গিয়ে মনের ভুলে রিচার্জ করে ফেলি। তখনও আমাদের এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফারের প্রয়োজন পরে।

এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার

আজ আমরা শিখব কিভাবে সহজেই জিপি, রবি, বাংলালিংক এবং এয়ারটেল সিম থেকে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা যায়। বিভিন্ন কোম্পানীর ব্যালেন্স ট্রান্সফার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় আমরা আলাদা আলাদা ভাবেই পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করব।

জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফার 

গ্রামীণফোন তথা জিপি সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আমাদের যে ধাপগুলো অতিক্রম করতে হবে তা হল:-

১. জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফারে প্রথমেই যে সিম থেকে আপনি টাকা পাঠাতে চান সে সিম থেকে *121*1500*1# ডায়ালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর আপনি একটি কনফার্মেশন ম্যাসেজ পাবেন যাতে ৬ ডিজিটের একটি কোড থাকবে। এই পিন কোডটি সংরক্ষণ করুন।

২. রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফার কোড অর্থাৎ *121*1500# ডায়াল করে ২ নম্বর অপশন সিলেক্ট করুন। অথবা আপনি সরাসরি *121*1500* 2# ডায়াল করতে পারেন।

৩. এরপর যে জিপি নাম্বারে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে চান সে নাম্বার লিখে send করুন।

৪. এরপর টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে আবারো send বাটনে ক্লিক করুন। (মনে রাখবেন আপনি জিপি থেকে জিপিতে সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারবেন।)

৫. জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফারের সর্বশেষ ধাপে রেজিস্ট্রেশনের সময় পাওয়া পিন কোডটি লিখে send বাটনে ক্লিক করুন। গ্রামীণফোনে ব্যালেন্স ট্রান্সফার সম্পন্ন হলে দুটি সিমেই কনফার্মেশন এসএমএস পাবেন আপনি। 

জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। শর্তগুলো হলঃ 

  • আপনার প্রিপেইড সিমটি ৬ মাস বা তার বেশি দিন ধরে ব্যবহার করলে অথবা ৩০০ টাকা একসাথে রিচার্জ করলে আপনি জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফারের সুবিধা পাবেন।
  • মাসে সর্বোচ্চ ১০ বার জিপি ব্যালেন্স ট্রান্সফারের সুবিধাটি ভোগ করতে পারবেন আপনি।
  • ব্যালেন্স ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে পিন কোডটি মনে রাখা আবশ্যক। পিন ভুলে গেলে কাস্টমার কেয়ারে কল করে জেনে নিতে হবে। এক্ষেত্রে যার নামে সিমটি রেজিস্টার্ড তার এন আইডি নাম্বারের প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার করার নিয়ম 

বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার শুধু মাত্র বাংলালিংক টু বাংলালিংক নাম্বারেই সম্ভব। এক্ষেত্রে ব্যালেন্স ট্রান্সফারে আপনার বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

১. বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফারে আপনাকে প্রথমেই *1000# ডায়াল করে 1 টাইপ করে send করতে হবে। পপ আপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এরপর আপনাকে একটি কোড দেওয়া হবে। এই কোডটি নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন।বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফারে কোডটি অত্যাবশ্যক।

২. পুনরায় *1000# ডায়াল করে 1 লিখে সেন্ড করুন।

৩. বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফারে এর পর আগে পাওয়া পিনকোডটি লিখে send করুন।

৪. এরপর টাকার পরিমাণ লিখে send করলেই বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার সম্পন্ন হবে। ( এক্ষেত্রে আপনি ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারবেন।) 

বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফারে আপনার কিছু শর্ত ও লিমিট মেনে চলতে হবেঃ

  • বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফারে ব্যবহৃত সিমটি অবশ্যই কমপক্ষে ৩০ দিন সচল থাকতে হবে।
  • একবার বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার সম্পন্ন হলে পরবর্তী ৩০ মিনিটে আর কোনো ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা সম্ভাব হবে না। এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফারের সাথে সাথে ব্যালেন্স রিসিভের সুবিধাটিও বন্ধ থাকবে এই ৩০ মিনিট।
  • যদি আপনার ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সে কোনো বকেয়া থাকে তাহলে আপনি বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন না।
  • প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পাঠাতে বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন।
  • বাংলালিংক ব্যালেন্স ট্রান্সফার কোডটি ভুলে গেলে *1000# ডায়াল করে 3 লিখে send করতে হবে। এরপর আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের শেষ ৪ ডিজিট লিখে send করলেই আপনাকে আপনার নতুন পিন কোড জানিয়ে দেওয়া হবে।

রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফার করার নিয়ম 

রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফার করা তুলনামূলক সহজ। রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফারে আমাদের নিম্নোক্ত ধাপগুলি অতিক্রম করতে হয়:-

১. প্রথমে যে রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফার করতে চান সে নাম্বার থেকে *140*6*2# ডায়াল করতে হবে।

২. এরপর রবি সিম থেকে যত টাকা পাঠাতে চান সে পরিমাণ লিখে পাঠাতে হবে।

৩. রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফারের শেষ ধাপে যে রবি সিমে টাকা পাঠাতে চান সে নাম্বার লিখে send বাটনে ক্লিক করতে হবে।

৪. এরপর রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফার হওয়ার একটি কনফার্মেশন ম্যাসেজ পাবেন। 

রবি সিমে টাকা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ কিছু শর্ত ও লিমিটঃ

  • রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফারের সুবিধা পেতে আপনাকে কমপক্ষে ৩০ দিন ওই প্রিপেইড বা পোস্টপেইড রবি সিম ব্যবহার করতে হবে।
  • আপনি রবি সিম থেকে ৫টাকা থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারবেন।একদিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ১০০০টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারবেন।
  • প্রতিবার রবি সিম থেকে টাকা ট্রান্সফারে প্রেরক ও প্রাপক উভয়কেই ২টাকা+ ভ্যাট চার্জ করা হবে।

airtel balance transfer code 

এয়ারটেল ব্যালেন্স ট্রান্সফারের কোনো নির্দিষ্ট airtel balance transfer code নেই।বরং ম্যাসেজের মাধ্যমে এ অপারেটর এর এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা হয়। airtel balance transfer code না থাকলেও বেশ সহজেই নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে আপনি এয়ারটেল ব্যালেন্স ট্রান্সফার সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

১. এক্ষেত্রে airtel balance transfer code না থাকায় আপনি আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে PIN লিখে 1000 নাম্বারে সেন্ড করুন। ফিরতি ম্যাসেজে আপনাকে একটি পিনকোড দেওয়া হবে।

২. এরপর ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে BTR <space> PIN (আগের ম্যাসেজে পাওয়া পিনটি) <space> Receiver number <space> Transfer amount লিখে 1000 নাম্বারে send করতে হবে। (একবারে ৫টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা যাবে। 

দেখলেন তো বন্ধুরা airtel balance transfer code না থাকলেও কত সহজেই আমরা এসএমএস এর মাধ্যমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারি? 

এয়ারটেল ব্যালেন্স ট্রান্সফারেও আমাদের কিছু শর্ত ও লিমিট মেনে চলা আবশ্যকঃ

  • প্রিপেইড বা পোস্ট পেইড যে সিমই হোক ব্যালেন্স ট্রান্সফারে অবশ্যই ৩০ দিন এয়ারটেল সিম ব্যবহার করতে হবে।
  • এক সিম থেকে অন্য সিমে একদিনে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালেন্স ট্রান্সফার করা সম্ভব।
  • প্রতিবার ব্যালেন্স ট্রান্সফারে প্রেরক ও প্রাপক উভয়ের ক্ষেত্রেই ২.৫৫ টাকা চার্জ প্রযোজ্য হবে। 

সর্বশেষ কথা

এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে আমরা খুব সহজেই এক সিম থেকে অন্য সিমে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে পারব। আশা উপরের লেখাটি পড়ে আপনাদের উপকার হয়েছে। নিয়ম বুঝতে কোনো অসুবিধা হলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। লেখাটি ভালো লাগলেও কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url